প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে
প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে
আমাদের কলেজ:
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার ঝিনাইদহ এক সমৃদ্ধ জনপদ| মরমী কবি পাগলাকানাই, গণিতশাস্ত্রবিদ কে.পি বসু, কবি গোলাম মোস্তফা, বারো আউলিয়ার বারোবাজার, গাজী-কালু-চম্পাবতীর উপাখ্যান, কুমার, কপোতাক্ষ, চিত্রা, বেগবতী, নবগঙ্গা নদী, খেজুর গুড় আর কলা-পানের প্রাচুর্যমণ্ডিত ঝিনাইদহের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজ| এখান থেকে আলো নিয়ে পৃথিবীর বহু প্রান্তে আলো ছড়াচ্ছেন এই কলেজ থেকে পাশ করে বের হওয়া অগনিত ব্যক্তিত্ব|
পটভূমি ও ক্রমবিকাশ
তৎকালিন যশোর জেলার এক সমৃদ্ধ মহোকুমা ঝিনাইদহের জনসাধারনের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক বাবু কেশবচন্দ্র পাল, মহকুমা প্রশাসক এম. কে আনোয়ার এবং স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী জনগণের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অর্থানুকুল্যে গড়ে ওঠে ঝিনাইদহবাসীর বহুদিনের কাঙ্ক্ষিত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেশব চন্দ্র মহাবিদ্যালয়| প্রতিষ্ঠালগ্নে বাবু কেশবচন্দ্র পাল কলেজটির জন্য তাঁর ব্যবহৃত দোতলা বাড়ি (বর্তমানে এটি অধ্যক্ষের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে) ও জমি দান করেন এবং তাঁর নামানুসারে কলেজটির নামকরণ করা হয় কেশব চন্দ্র মহাবিদ্যালয়| দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইএ ও আইকম এবং ১৯৬৪ সালে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি শ্রেণির অ্যাফিলিয়েশান প্রাপ্ত হয়| পরবর্তীতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ১৯৬৩ সালে বিএ ও বিকম এবং ১৯৮০ সালের ১ মার্চ কলেজটিকে জাতীয়করণ করা হয়| বর্তমানে কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ষোলো হাজার| এখন প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চমাধ্যমিক, ডিগ্রি (পাস কোর্স), ১৪টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও ১৪টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পাঠদান করা হচ্ছে| পাঠগ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এবং যুব রেডক্রিসেন্ট, ¯ে^চ্ছায় রক্তদানের সংগঠন ‘বাধন’ এর মতো সমাজসেবামূলক কাজের সাথে সম্পৃক্ত| তাছাড়া এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগহণ করে থাকে| প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে| শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দেশের শিক্ষা বিস্তার এবং শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে|
আমাদের ক্যাম্পাস, আমাদের স্বপ্ন:
কলেজে স্থানাভাব প্রকট| কলেজের মোট জমির পরিমাণ মাত্র ১২ একর| এর মধ্যে মূল ক্যাম্পাসটিতে আছে মাত্র ৩ একর ৫ শতক জমি| বাকি জমি ক্যাম্পাসের বাইরে যেখানে আছে ছাত্রাবাস, ছাত্রীনিবাস, একটি পুকুর ও তিন একর আবাদি জমি| নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পিছিয়ে নেই সরকারি কেশবচন্দ্র কলেজের কার্যক্রম| সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজ অতীতের ধারাবাহিকতায় এবং ¯^ীয় মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে শিক্ষাদান সহ যাবতীয় কর্যক্রম অত্যন্ত গতিশীলতার সাথে অব্যাহত রেখেছে| অভ্যন্তরীণ, বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের সাফল্য কলেজের উন্নত শিক্ষামানের সাক্ষ্য বহন করে| কলেজের বিদ্যমান নিয়ম-নীতি মধ্যে থেকেই বিভিন্ন রাজনীতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আত্মোন্নয়মূলক সংগঠন দায়িত্বশীলতার সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে| রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও তাদের মধ্যে কোন হানাহানি নেই বরং গনতান্ত্রিক চর্চায় তারা সদাজাগ্রত| কলেজের এই ছোট্ট ক্যাম্পাস বড় ¯^প্ন দেখতে শেখায়, এ যেন আগামীর আলোকিত মানুষ ˆতরির কারখানা|
আন্দোলন-সংগ্রামে কেশব চন্দ্র কলেজ:
শিক্ষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০ এর গণআন্দোলনে যেমন সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজ সক্রিয় থেকে দাবী আদায়ে ¯^চেষ্ট ছিলো তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মতো সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে এ কলেজের ছাত্র-শিক্ষক কর্মচারীদের রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা| ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আকাশে সোনালি সূর্য্যরে প্রতিভাস| প্রতিকুলতায় থেমে থাকা নয়, এগিয়ে চলার ¯^াক্ষর সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজ| পঞ্চাশোর্ধ্ব বছরের এ গৌরবাšি^ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখন নিজেই গবেষণার বিষয়বস্তু হয়ে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে| আজ একবিংশ শতাব্দীর দ্বারপ্রান্তে দাড়িয়ে মহৎপ্রাণ প্রতিষ্ঠাতাদের জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা|
এক নজরে সরকারি কেশব চন্দ্র কলেজ
বর্তমান অধ্যক্ষ: প্রফেসর মোঃ মাশরুর-উল আলম
গাড়ি: ১ টি
ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি: ১ টি
কলেজ ক্যান্টিন: ১ টি
বাই সাইকেল স্ট্যান্ড: ১ টি
মোটর বাইক স্ট্যান্ড: ২ টি
শিক্ষক ক্লাব: ১ টি
পত্রিকা স্ট্যান্ড: ১ টি
শ্রেণি কার্যক্রম
উচ্চ মাধ্যমিক বিষয় সমূহ: বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, অর্থনীতি, পৌরনীতি, দর্শন, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, কৃষিশিক্ষা, ভূগোল, পরিসংখ্যান, সমাজকর্ম ও আই.সি.টি
স্নাতক (সম্মান) বিভাগসমূহ: বাংলা, অর্থনীতি, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, হিসাববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান|
স্নাতকোত্তর (শেষ পর্ব) বিষয়সমূহঃ বাংলা, অর্থনীতি, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, ব্যবস্থাপনা, হিসাববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান|
স্নাতকোত্তর (প্রথম পর্ব) বিষয়সমূহঃ বাংলা, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ব্যবস্থাপনা, গণিত|
ডিগ্রি (পাস) নিয়মিত কোর্সসমূহ: বিএ, বিএসএস, বিবিএস ও বিএসসি
ডিগ্রি (পাস) প্রাইভেট কোর্সসমূহ: বিএ, বিএসএস, বিবিএস
এছাড়াও এইচ এস সি প্রাইভেট কোর্স চালু আছে|